ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ই-পেপার

দিশাহারা গাজাবাসী খুঁজছে আশ্রয়

আপলোড সময় : ০৫-০৪-২০২৫ ১২:২৮:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০৪-২০২৫ ১২:২৮:২৯ অপরাহ্ন
দিশাহারা গাজাবাসী খুঁজছে আশ্রয়
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে। শুক্রবারের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের ২৪ ঘণ্টায় এসব হত্যা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে গাজা সিটি স্কুলে হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, গাজার উপত্যকার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ জায়গায় এখন আর কোনো ‘নিরাপদ’ অঞ্চল নেই।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইসরাইলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার জেরে গাজার হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন। এতে গাজায় আবার বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন করে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করা রাফাহ শহরের দিকে ইসরাইলি বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে। তারা এই শহর দখল করতে চায় বলে খবরে জানানো হয়।

বিপুলসংখ্যক গাজাবাসীর আশ্রয় নেওয়া রাফাহ দখলের ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর ইসরাইলি বাহিনী উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরের দিকে অঞ্চল অগ্রসর হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার গাজাবাসীর শেষ আশ্রয়স্থল ছিল রাফাহ। মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের নৃশংস ও নির্বিচার হামলায় ১১২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গাজা শহরের উত্তরের শহরতলি শেজায়ায় বৃহস্পতিবার ভোরে বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এদিন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় নারী, শিশুসহ ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।

চিকিৎসাকর্মীরা বলছেন, গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় দার আল-আকরাম স্কুলে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। রাফাহ থেকে পাশের খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া সাত সন্তানের এক বাবা একটি চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, রাফাহ শেষ। সেখানকার সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাবা বলেন, রাফাহতে যে কয়টি ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি দাঁড়িয়ে আছে, সে সবকিছু তারা ধ্বংস করে ফেলছে।

ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে গত মাসে আবার গাজায় আগ্রাসন শুরুর পর রাফাহ দখল করতে নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা শহরের উত্তরের শেজায়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। প্রাণভয়ে ওই এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে হেঁটে, অনেকে গাধার গাড়ি আবার অনেকে মোটরসাইকেল ও ভ্যানে চড়ে পালাচ্ছেন।

সেখানকার বাসিন্দা উম্ম আয়েদ বারদা বলেন, ‘আমি মরতে চাই। তাদের আমাদের মেরে ফেলতে এবং এই জীবন থেকে মুক্তি দিতে দিন। আমরা এমনিতে বেঁচে নেই। আমরা মৃত।’ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ইসরাইলি বাহিনী আরেকটি সামরিক করিডোর প্রতিষ্ঠা করছে, যা খান ইউনিসের কাছ থেকে রাফাহকে বিচ্ছিন্ন করবে। তার যুক্তি, সামরিক চাপে হামাস তাদের হাতে থাকা বাকি ৫৯ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে, যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামাস বলেছে, নতুন যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলের সর্বশেষ প্রস্তাবে তারা জড়াবে না। তারা কেবল ৫০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য অন্য দুই মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসরের প্রস্তাবকে মানছে।

বিবিসি লিখেছে, এই পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে বোঝা যাচ্ছে যে আঞ্চলিক প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে পাঁচজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে; গাজার যেসব অংশে সম্প্রতি ফের ইসরাইলি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে তা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তার বিষয় থাকবে। যুদ্ধ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : mainadmin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ